সাম্প্রতিক সময়ে সবজির দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও বাজারের সামগ্রিক চিত্র এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। গত কয়েক সপ্তাহে সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে সরবরাহ বাড়লে কিছু সবজির দাম কমতে দেখা যায়।

তবে এখন বাজারে পাওয়া ১৬ ধরনের সবজির মধ্যে ১২টির দাম কেজিতে ৮০ টাকা বা তার বেশি। এর মধ্যে পাঁচ ধরনের সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুরের টাউন হল কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বাজারে ৮০ টাকার কম দামে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র চার ধরনের সবজি। এর মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে—কেজি ৪০ টাকা।

দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১৫০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ১০০ টাকা দরে পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, ধুন্দুল, কচুমুখি ও কচুর লতির মতো সবজির সরবরাহ সাধারণত বাড়ে। ফলে এ সময়ে এসব সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা। কিন্তু গতকাল এসবের বেশির ভাগই ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। শসার দামও ছিল কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

সারা বছর কমবেশি পাওয়া যায় এমন পেঁপে, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও চালকুমড়ার দামও তুলনামূলক বেশি। মাঝারি আকারের একেকটি লাউ ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁপের দামও এখন ৪০ টাকা।

মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। গতকাল রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। চালের দাম স্থির রয়েছে—মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

কাঁচা মরিচের বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহ আগেও এর দাম কেজিতে ৪০০ টাকা বা তার বেশি উঠেছিল। গত সপ্তাহে ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। গতকাল হাতিরপুল ও টাউন হল বাজারে খুচরায় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, ভারতীয় কাঁচা মরিচের চালান বাজারে আসার পর দাম অনেকটাই কমেছে।

পেঁয়াজের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। খুচরা বাজারে মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। পাঁচ কেজি একসঙ্গে কিনলে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৫০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। গত সপ্তাহে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা দুই টাকা কম রাখলেও এখন তা হচ্ছে না। টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আজমল মিয়া বলেন, তাঁরা এখন ফার্ম থেকে ১০০টি ডিম ১ হাজার ২২০ টাকায় কিনছেন।

অন্যদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় আলুর দাম কেজিতে ৪–৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল হাতিরপুল ও টাউন হল বাজারে আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে পাঁচ কেজি ১৩০ টাকায় পাওয়া যায়।

গতকাল হাতিরপুল কাঁচাবাজারে কথা হয় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সিফাত শারমিনের সঙ্গে। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বেশি দামের কারণে কম কম সবজি কিনছি। আগে এক কেজি কিনলে, এখন কিনছি আধা কেজি। আর তরকারি রান্না করছি বেশি ঝোল দিয়ে। সবকিছুর দামই তো বেশি। এইভাবে চলা ছাড়া উপায় কী?’