লাওস পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক বাংলাদেশের ওষুধ ও কৃষিপণ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়ানে দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠক দুই দেশের ৩৮ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আনৌপার্ব ভংনোরক যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), স্বাস্থ্যসেবা, ইকো-ট্যুরিজম, জলবায়ু পরিবর্তন, কনস্যুলার সহযোগিতা ও উচ্চশিক্ষা।
বৈঠকে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগে শ্রম সহযোগিতা বিষয়ে এমওইউ, তরুণ কূটনীতিকদের মধ্যে বিনিময়, পর্যটন সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের কৌশল নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।
কনস্যুলার সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা সহজ করার অনুরোধ জানায় ঢাকা, যা লাওস ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। দুই দেশের মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম উল্লেখ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারগুলোর মধ্যে প্রতিনিধিদল বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে লাওসের সমর্থনের জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানায় এবং মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে লাওসের অব্যাহত সমর্থন কামনা করে ঢাকা।
বাংলাদেশের আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপের (আরসিইপি) সদস্য হওয়ার উদ্যোগে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে লাওস।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে দুই জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন কৌশল নিয়ে অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা একটি ফলাফলসংক্রান্ত দলিলে স্বাক্ষর করেন। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব ও তার সফরসঙ্গীদের সম্মানে লাওসের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি নৈশভোজের আয়োজন করেন।