বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাটের খোলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় এসব প্রতিষ্ঠান বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
এছাড়া, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্ত আজ বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক আদেশে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবাসমূহ এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১১ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময় কমিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়, যার পাল্টা হামলা করে ইরান। এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট দেখা দেয়, যা বাংলাদেশের ওপরও প্রভাব ফেলে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষিতে গত ২ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানো হয়।
সেই সময় দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ছয়টার সময় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা পরদিন থেকেই কার্যকর হয়। তবে পরে দোকান ব্যবসায়ী সমিতির অনুরোধে সেই সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলার সময়সীমা শিথিল করা হয়। ঈদের পর আবার সন্ধ্যা ৭টায় দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ব্যবসায়ীরা দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলার দাবি জানান। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ জুন দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলার সময় বাড়িয়ে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত করা হয়।
এখন সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার দোকান খোলা রাখার সময় রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।