সিলেটের রায়নগর আবাসিক এলাকার একটি বাসায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ওই বাসার বাসিন্দা এম আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং সেখানে কর্মরত ১৬ বছর বয়সী গৃহপরিচারিকা তাহমিনা। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে চেয়েছে তাহমিনার পরিবার।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তিনজনেরই গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ এবং সম্পত্তিসংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
নিহত তাহমিনার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক দোয়ারাবাজার এলাকার বরইকান্দি গ্রামে। তার বাবা আপ্তাব মিয়া পেশায় একজন দিনমজুর এবং মা নাজমা বেগম গৃহিণী ও দিনমজুর। পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের পর মাত্র দেড় মাস আগে তাহমিনা রায়নগরের ওই বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজে যোগ দেয়। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় তাহমিনা পরিবারের অভাব দূর করতে কাজে গিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।
তাহমিনার মামা রাহিম মিয়া বলেন, "কোরবানির ঈদের পর তাহমিনা ওই বাসায় কাজে যায়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় কাজ করে সংসারে সহযোগিতা করত সে।"
অন্যদিকে, তাহমিনার চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বোন কী অপরাধ করেছে যে তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে।"
এই ঘটনার জন্য তিনি সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে দায়ী করেন এবং দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বুধবার সকালে মৃত্যুর খবর পেয়ে তাহমিনার বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আদরের মেয়েকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নাজমা বেগম। স্বজনদের আহাজারিতে মিতালী এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।