আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে পারে। ১০ নভেম্বরের মধ্যে পুরো কার্যক্রম শেষ করে ১২ নভেম্বর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, কোনো আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণের সময় রাখা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যদি সেটি ঠিক থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হবে।"
গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন, আর প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার একাদশে অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে মোট ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গত বছর মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ পূর্ণ হয়েছিল এবং খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এবার পাসের হার আরও কমে যাওয়ায় শূন্য আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সামগ্রিকভাবে আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে জায়গা পেতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন, কারণ ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন সংখ্যা সীমিত। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন, যার মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।
বিগত কয়েক বছর ধরে প্রচলিত এই পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম উল্লেখ করে অনলাইনে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ফলাফল, কোটা এবং পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির মনোনয়ন দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়া ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই কেন্দ্রীয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।