সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে অ্যামচেম বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে।

বৈঠকে অ্যামচেম জানায়, বিগত বছরগুলোতে তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আগামী ৫ বছরে আরও ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আনতে সহায়ক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেয় সংগঠনটি। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও সরকারের অংশীদারত্ব কামনা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।"

বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করতে নীতির স্পষ্টতা, ধারাবাহিকতা, দক্ষ প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে অ্যামচেম। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় বিনিয়োগ সহজতর করতে নেওয়া বাস্তবমুখী পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, কমপ্লায়েন্সের চাপ কমানো, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগগুলো প্রতিনিধিদল স্বাগত জানায়।

অ্যামচেম মনে করে, অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির কাঠামোকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে অ্যামচেম। তাদের মতে, এই কাঠামো দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করতে এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে পারে। অ্যামচেম কেবল বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি নয়, বরং প্রযুক্তি, এআই ও ডিজিটাল উদ্ভাবন, ক্লাউড প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা ও আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল অ্যামচেম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে অ্যামচেমের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সরকারের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

অ্যামচেম প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।