ঝালকাঠিতে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় চারটি দাখিল মাদ্রাসা ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এই তথ্য সামনে আসে। জানা গেছে, ওই ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার মোস্তফাবাদ কাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন, সাওরাকাঠি নাভা আদর্শ সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল থেকে ৭ জন, কাঁঠালিয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৫ জন, ঝোড়খালী দারুলহুদা গফুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৪ জন এবং দত্তের পশারিবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এছাড়া বানাই রাবেয়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ৬ জন। তবে এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

অন্যদিকে, রাজাপুর উপজেলার এসজিএস সেকেন্ডারি স্কুলের ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছেন। একইভাবে নলছিটি উপজেলার পশ্চিম গোপালপুর হাইস্কুলের ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকটিতেই নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলে না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে অল্প সময় অবস্থান করে চলে যান এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। তাদের দাবি, এমপিওভুক্তির আশায় কিছু প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "জেলার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের সেখানে পাঠাতে আগ্রহী হন না। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কম থাকে।"

তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।