নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের হার অর্জন করেছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আমাদের বিদ্যালয় শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। এ বছর ৩৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।"
সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে।"
তিনি আরও জানান, এই অর্জনে বিদ্যালয়ের সবাই আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, মেধা ও নৈতিকতায় নিজেদের সমৃদ্ধ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী রাফিয়া আক্তার নিশাত মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আমাদের পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।"
অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত আরেক শিক্ষার্থী রাহিমুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করে আমাদের বাবা-মা ও এলাকার মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।"
কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় হুমায়ূন আহমেদ তার নিজ এলাকার শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
এবারের এসএসসি পরীক্ষার পাসের হারের হিসেবে কেন্দুয়া উপজেলার শীর্ষ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০০ শতাংশ।
তালিকার পরবর্তী অবস্থানে থাকা চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া উচ্চবিদ্যালয়ের পাসের হার ৯৩ শতাংশ। এছাড়া পৌর সদরের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, গন্ডা ইউনিয়নের গন্ডা দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের পাসের হার ৭১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং পৌর সদরের সাবেরুন্নেসা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।