পিরোজপুরের নেছারাবাদের মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এমন হতাশাজনক ফলাফল সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে পাস করেছিল মাত্র একজন। বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং পাঠদান পদ্ধতি নিয়েও নানা সন্দেহ রয়েছে। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্লাসে দেখা যায় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী এই ব্যবস্থাপনার মধ্যেও শিক্ষার মানের কোনো দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় বিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও গ্রেড সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্শিয়া রানী হালদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এখন মনে নেই, পরে জানাব।"

বিদ্যালয়ের এমন ফলাফল নিয়ে তিনি দুঃখিত কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "দুঃখ কীসের? শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?"

বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ১৩ জন কর্মী রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে সরকারের তিন লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে।

এই বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি কী কারণে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে। পরে বিস্তারিত বলতে পারব।"

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বরং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও দায়িত্ব। সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তারা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।