যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণ জার্মানি হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সেখান থেকে আটক হন।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত জুলিসা রুবি সালাজার টাকসন এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানান। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ইউক্লিড অ্যাভিনিউ ও এলম স্ট্রিটের কাছের ওই অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। সেখানে টাকসন ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কর্মীরা সালাজারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সালাজারের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এই ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে সালাজারের ২০ বছর বয়সী প্রেমিক বরুণ বাচিগারিকে শনাক্ত করেন। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সালাজারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার পর বাচিগারি সালাজারের ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নিয়েছিলেন এবং ওই ফোন থেকে সালাজারের মাকে একের পর এক খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এই আচরণ গোয়েন্দাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে। পরবর্তীতে জানা যায়, সালাজারের মৃত্যুর দিনই বাচিগারি টাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হিউস্টন হয়ে বার্লিনগামী উড়োজাহাজে ওঠেন। তাঁর চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল ভারত।
হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে বাচিগারির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর ফেডারেল, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অ্যারিজোনার কর্মকর্তারা তাঁকে জার্মানি থেকে আটকের ব্যবস্থা করেন।
নিহতের রুমমেটরা জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট সালাজারের শোবার ঘর থেকে জোরে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন তাঁরা। পরে খুদে বার্তায় জানতে চাইলে সালাজার জানিয়েছিলেন যে তিনি ঠিক আছেন এবং একটি ঝগড়ার কারণে ওই শব্দ হয়েছিল।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, সালাজার বাচিগারির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে তিনি বাচিগারির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন, তবে পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি।
এর বাইরে পিমা কাউন্টিতে অন্য একটি হামলার ঘটনায় গত মে মাসে বাচিগারির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। তিনি অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস অ্যানালিটিকস বিষয়ে পড়াশোনা করলেও একটি মারামারির ঘটনার পর তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। সম্প্রতি চাকরি হারানোর ফলে তাঁর বাড়িভাড়া দেওয়া এবং ভিসার বৈধতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বাচিগারি জার্মানিতে নিরাপত্তা হেফাজতে আছেন। তাঁকে অ্যারিজোনায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে তাঁকে পিমা কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে হত্যা মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে।