বিএনপিকে সতর্ক করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "সাবধান, এখানেই স্টপ। সামনে আর পা বাড়াবেন না। কারও দিকে চোখ রাঙাবেন না। বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যুবকরা কারও চোখ রাঙানিকে পাত্তা দেয় না। আপনারা হাজারবার চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট হতে পারবেন না। কিন্তু আপনারা সেই পথেই পা বাড়াচ্ছেন।"
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া সরকারি কাজী আজহার আলী মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যার প্রতিবাদ’ শীর্ষক জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন সহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি নিহতদের শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
সম্প্রতি রংপুরে বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ওই নেতা সেখানকার মানুষকে বলেছিলেন যে তারা পিছিয়ে থাকবেন, কারণ তারা জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দেন। এই বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন করেন, "আমি কাকে ভোট দেব, কাকে দেব না—সেটা কি বিএনপি ঠিক করে দেবে?"
রাষ্ট্রের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "রাষ্ট্রের উন্নয়ন কি কারও বাবার তহবিল থেকে হচ্ছে? এটা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় হয়। কোনো এলাকার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই।" রংপুরসহ দেশের সব অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
উক্ত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান মাজেদ এবং গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান রোকন, সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা, জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, সেক্রেটারি ফাহিম মণ্ডল, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন, সেক্রেটারি আব্দুল গফুর এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।