বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক প্রযুক্তি ও ই-কমার্স মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের মতো রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা গড়ে তুলেছেন তাতিয়ানা কিম। যুদ্ধের সময়ও তিনি দেশটির রাজনীতির সঙ্গেই চলার চেষ্টা করেছেন। সাত সন্তানের বাবা সাবেক স্বামীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ব্যবসায়িক বিরোধও শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হন। ওই বিরোধ কেন্দ্র করে মস্কোর রেড স্কয়ারের কাছে প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারী হিসেবে পরিচিত তাতিয়ানা কিমের প্রতিষ্ঠান যুদ্ধের ধাক্কায় এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। ইউক্রেন বিমান হামলা চালিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগুলো একের পর এক ক্ষতিগ্রস্ত করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোয় কয়েক মাস ধরে হামলার পর দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরির প্রেক্ষাপটের মধ্যেই ইউক্রেন এবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোয় হামলা জোরালো করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত রাশিয়াজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ২৩টি স্থাপনায় হামলার কথা বলা হয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে প্রায় প্রতি রাতেই এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে এসেছে। এতে কয়েক শ কোটি ডলারের পণ্য পুড়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৯ জন কর্মী নিহত হয়েছেন বলেও বলা হয়।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাশিয়ার বৃহৎ ব্যাংক সবার গবেষণা বিভাগ সবারইনডেক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ওয়াইল্ডবেরিজের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খাদ্য নয়, এমন পণ্য কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর পেছনে ইউক্রেনের বিমান হামলার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসব হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। কারণ, এবারই প্রথম ইউক্রেন কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে—এমন কথাও উঠে এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে দিতে তিনি চান। তাঁর আশা, রুশ সমাজে অসন্তোষ ও ভোগান্তি বাড়লে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপও বাড়বে।

ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার মোট খুচরা পণ্য বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশই ওয়াইল্ডবেরিজের মাধ্যমে হয়। রুশ সেনাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করায় প্রতিষ্ঠানটি হামলার বৈধ লক্ষ্য বলে মনে করে কিয়েভ।

গত মাসের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় তাতিয়ানা কিম এসব হামলার নিন্দা জানান। তিনি এগুলোকে সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজে যেসব পণ্য বিক্রি হয়, অ্যামাজন বা চীনের আলিবাবাতেও একই ধরনের পণ্য পাওয়া যায়।

বছরের পর বছর ধরে ওয়াইল্ডবেরিজ রাশিয়ার ভোক্তা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯৫ হাজার পণ্য সংগ্রহ কেন্দ্র চালু হয়। রাশিয়ার অর্ধেকের বেশি মানুষ মাসে অন্তত একবার ওয়াইল্ডবেরিজ থেকে কেনাকাটা করতেন।

তাতিয়ানা কিম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে কোনো যুক্তি, সাধারণ বোধ বা বিবেচনা নেই, থাকতেও পারে না।’ তাঁর ভাষায়, শত্রুপক্ষ বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে চাপ সৃষ্টি, অস্থিতিশীলতা এবং আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছে।

হামলাগুলো ওয়াইল্ডবেরিজের পাশাপাশি রাশিয়ার খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলছে। একই সময়ে দেশটির অর্থনীতি নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের তুলনায় ওয়াইল্ডবেরিজে হামলার ক্ষয়ক্ষতি এখনো অনেক কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাশিয়ার বৃহৎ ব্যাংক সবারইনডেক্সের গবেষণা বিভাগ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ওয়াইল্ডবেরিজের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খাদ্য নয়, এমন পণ্য কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর পেছনে ইউক্রেনের বিমান হামলার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এত দিনে সেই সংকট কাটিয়ে উঠলেও নতুন করে আরও বড় সংকটের মুখে পড়েছে ৫০ বছর বয়সী কিমের ব্যবসা। ফলে দ্রুত ব্যবসার ধরন বদলানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

মস্কোভিত্তিক ই-কমার্স পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেটা ইনসাইটের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি রুবেল বা ৫৯০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য ধ্বংস হয়েছে।

ডেটা ইনসাইটের বিশ্লেষক সের্গেই সেমকো বলেন, ‘ওয়াইল্ডবেরিজের সবচেয়ে বড় গুদামগুলো প্রায় শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন একটি করে গুদাম পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।’

ইউক্রেনের হামলা কত দিন চলবে এবং তাতিয়ানা কিম কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বদলাতে পারবেন তার ওপর ওয়াইল্ডবেরিজের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। রুশ সরকারের কাছ থেকে তিনি কতটা সহায়তা আদায় করতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রুশ পরিবারে জন্ম নেওয়া কোরীয় বংশোদ্ভূত তাতিয়ানা কিম ছিলেন ইংরেজির শিক্ষক। ২০০৪ সালে স্বামী ভ্লাদিস্লাভ বাকালচুককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওয়াইল্ডবেরিজ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পোশাক বিক্রি করত প্রতিষ্ঠানটি।

ইউক্রেনে পুতিনের হামলার পর ওয়াইল্ডবেরিজের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা অনেক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার বাজার থেকে সরে যায়—এ সময়ে অনলাইন কেনাকাটার ভূমিকা বাড়ে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালে তাতিয়ানা কিম একটি রুশ বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওয়াইল্ডবেরিজকে একীভূত করেন। ধারণা করা হয়, রুশ সরকারের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছিল। কিমের স্বামী এই চুক্তিকে ‘করপোরেট দখল’ বলে অভিযোগ করেন।

একপর্যায়ে সশস্ত্র চেচেনদের একটি দল নিয়ে মস্কোয় ওয়াইল্ডবেরিজের কার্যালয়ে হাজির হন কিমের স্বামী বাকালচুক। সেখানে গোলাগুলিতে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হন। পরের বছর কিম ও বাকালচুকের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

ভিডিও বার্তায় তাতিয়ানা কিম বলেন, ওয়াইল্ডবেরিজ পণ্য সরবরাহব্যবস্থা আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং দ্রুত সরবরাহ অবকাঠামো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক অনলাইন পোস্টে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অঞ্চলের সরকার ও বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও বড় ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওয়াইল্ডবেরিজ এরই মধ্যে ৮০ হাজারের বেশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীর জন্য দুই দফায় স্বেচ্ছা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ড্রোন হামলায় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিক্রেতারা যাতে ক্ষতিপূরণ পান, সে জন্য সীমিত পরিসরে বিমার ব্যবস্থাও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাশিয়ার উপঅর্থমন্ত্রী আলেক্সেই সাজানভ চলতি সপ্তাহে বলেন, ওয়াইল্ডবেরিজের বিক্রেতাদের জন্য সরকারও সহায়তার ব্যবস্থা করছে। এর মধ্যে কর ছাড় এবং নির্দিষ্ট কিছু অর্থ পরিশোধে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার মতো সুবিধা থাকবে।

সহায়তার বার্তা থাকলেও ওয়াইল্ডবেরিজের কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও জানা গেছে। সেন্ট পিটার্সবার্গে ওয়াইল্ডবেরিজের ২৪ বছর বয়সী এক কর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির গুদামগুলোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার সময় তিনি অনেক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

ওই কর্মী যে গুদামে কাজ করতেন সেখানে এবং তাঁর বাড়ির কাছে আরেকটি গুদামে হামলা হওয়ার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ কাজটি তিনি পছন্দ করতেন।

ওয়াইল্ডবেরিজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা স্বাধীন ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ৪৪ বছর বয়সী কাটেরিনা কোরদিক এশিয়া থেকে তৈরি পোশাক ও অলংকার এনে বিক্রি করতেন। তাঁর ব্যবসা এতটাই ভালো চলছিল, পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হতো।

গত মাসে মস্কোর কাছে ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে ইউক্রেনের প্রথম হামলায় কাটেরিনার মজুত করা পণ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে দামি ছিল হাতে তৈরি অলংকার। অন্য জায়গায় কাটেরিনার আরও অনেক পণ্য রাখা ছিল। কিন্তু একের পর এক ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা হওয়ায় তিনি সেসব পণ্যও বের করে আনতে পারছিলেন না।

চলতি সপ্তাহে মস্কোর দক্ষিণে তুলা শহরের একটি ওয়াইল্ডবেরিজ গুদামে হামলা হয়। এতে কাটেরিনার আরও অর্ধেক পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। কাটেরিনা বলেন, প্রায় ২ হাজার পণ্যের মধ্যে এখন মাত্র ১০০টি বিক্রির জন্য আছে। তিনি বলেন, এসব কারণে এত বেশি ভেঙে পড়েছেন, জীবনে প্রথমবারের মতো তাঁকে একজন মনোরোগ চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হয়েছে।

কাটেরিনা বলেন, ‘আপনি যদি এমন একটি দেশে বাস করেন, যেখানে যুদ্ধ চলছে, তবে কোনো একসময় সেই যুদ্ধ আপনার জীবনেও প্রভাব ফেলবে না—এমনটা আশা করাই অস্বাভাবিক।’ তিনি বলেন, তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি শিক্ষা হিসেবে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তাতিয়ানা কিমকে এখন প্রতিযোগীদের চাপও সামলাতে হচ্ছে। ই-কমার্স খাতের পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ওয়াইল্ডবেরিজের অনেক বিক্রেতা এখন রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ওজনে চলে যাচ্ছেন। ওজনের পণ্য সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, ইউক্রেন এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি।

তবে অনেক জায়গায় ওয়াইল্ডবেরিজ এখনো স্বাভাবিকভাবেই চলছে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য সরবরাহব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এতটাই উন্নত, কয়েকটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাবে না বলে মনে করেন ওয়াইল্ডবেরিজের সাবেক এক কর্মকর্তা।

ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, ওয়াইল্ডবেরিজ সামরিক কাজে ব্যবহার করা যায়—এমন বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। এর মধ্যে ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও নেভিগেশন সরঞ্জামও রয়েছে। তবে কিম এসব হামলাকে শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর হামলা বলে নিন্দা করেছেন।

ওয়াইল্ডবেরিজের নিজস্ব নীতিমালাতেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে রুশ সেনাদের অনেক সমর্থক ও পরিবারের সদস্য এই ওয়েবসাইট থেকে বুলেটপ্রুফ পোশাক, হেলমেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনেছেন বলে জানা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়—এমন ড্রোন ও অন্যান্য পণ্যও সেখানে পাওয়া যায়।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্যামেরার সরাসরি দৃশ্য দেখে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন ড্রোনও আগস্টের শুরুতেও ওয়াইল্ডবেরিজে বিক্রির জন্য ছিল। এসব ড্রোনের মধ্যে বিস্ফোরক বহনের ব্যবস্থা ছিল। ড্রোন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য ফাইবার-অপটিক তারের রোলও বিক্রি হচ্ছিল।

একটি বিজ্ঞাপনে বিস্ফোরক ফেলার ব্যবস্থা থাকা একটি ড্রোন বিক্রির কথা বলা হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটির প্রশ্নোত্তর অংশে কয়েকজন ক্রেতা এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আবার কেউ কেউ বেশি পরিমাণে কিনলে ছাড় পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে চান। তাঁদের কেউ কেউ কোন রুশ সামরিক ইউনিটের জন্য ড্রোন কিনতে চান, সেটিও উল্লেখ করেন।

যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন করছে রুশ বাহিনী।

একজন ক্রেতা ইউক্রেনীয় সেনাদের বোঝাতে রাশিয়ায় ব্যবহৃত একটি অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করে লেখেন, ‘ড্রোনটি ভালো, ইউক্রেনীয়দের ঘায়েল করা যাবে।’ তবে এসব ড্রোন সত্যিই কেউ কিনেছে বা পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি নিউইয়র্ক টাইমস।

আরেক সম্ভাব্য ক্রেতা জানতে চান, ড্রোনটি রাশিয়ার তথাকথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বা ইউক্রেন যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না। বিক্রেতার উত্তর ছিল, ‘হ্যালো, হ্যাঁ।’

রাশিয়ার জনবহুল সৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিহত ৭, আহত ৪০