মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে মাইনসদৃশ ১০টি বস্তু উদ্ধারের পর ৩৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দলের আগমন ঘটেনি। ফলে ওই এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরকের মতো দেখতে বস্তুগুলো কর্ডন করে পাহারা দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাব, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে বস্তুগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে। তারা দ্রুত এসব বস্তু পরীক্ষা করে প্রকৃত সত্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, যশোর সেনানিবাস থেকে একজন মেজরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি।

শনিবার বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার একটি পরিত্যক্ত জমিতে স্থানীয়রা মাইনসদৃশ এসব বস্তু দেখতে পান। পুলিশকে খবর দেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্তত ১০টি চাটকিসদৃশ বস্তু ও কয়েকটি বড় বক্স উদ্ধার করে। বক্সগুলোর কয়েকটিতে ইংরেজিতে ‘MPI 1967 MINE A/PERS ND P2 MK2’ লেখা রয়েছে। তবে এগুলো প্রকৃত ল্যান্ডমাইন, ট্যাংক বিধ্বংসী মাইন, ডেমো মাইন নাকি অন্য কিছু, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল কর্ডন করে পাহারা বসানো হয়েছে। বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পুলিশের একটি সূত্র মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছে, শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ওই ইউনিটের সদস্যরা বর্তমানে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। পরবর্তীতে যশোর সেনানিবাসে যোগাযোগ করে ইউনিট পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে আজ টিম পাঠাবে বলে আমাদের মৌখিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। টিম চলে আসার পরপর বস্তুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

রোববার সন্ধ্যায় যশোর সেনানিবাসের একটি সূত্র মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছে, সোমবার সকালে একজন ওয়ারেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে একটি টিম মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। তারা বস্তুগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।