বর্ষার বহুরূপী আবহকে কবিতা ও সংগীতের ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় ‘পোয়েটিক ইকোজ উইথ মনসুন মেলোডিজ’ শীর্ষক এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলা ও ফরাসি সাহিত্য ও সংগীতের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্যের পাঁচ দিকপাল—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অতুলপ্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও রজনীকান্ত সেনের নির্বাচিত কবিতা ও গান পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি ফরাসি সাহিত্যের তিন বরেণ্য কবি শার্ল বোদলেয়ার, ভিক্টর হুগো ও পল ভেরল্যেনের কবিতার মাধ্যমে প্রকৃতি ও মানব-মনের অন্তর্জগতকে অন্বেষণ করা হয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ও গানের বিশেষ যুগলবন্দীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সেখানে তাঁর ‘এমনও দিনে তারে বলা যায়’ এবং ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদর দিনে’ কবিতা ও সংগীতের সংমিশ্রণে পরিবেশিত হয়। এরপর ফরাসি কবিতার জগতে প্রবেশ করে অনুষ্ঠানটি, যেখানে শার্ল বোদলেয়ারের কবিতার মাধ্যমে নগরজীবন, সৌন্দর্য ও বিষণ্নতার এক সূক্ষ্ম মেলবন্ধনে বৃষ্টির ভিন্ন অনুভূতি ফুটে ওঠে।

বাংলা পর্বের পরিবেশনায় স্থান পায় রজনীকান্ত সেনের গান, কাজী নজরুল ইসলামের ছোটগল্প ‘বাদল বরিষণে’-এর অংশবিশেষ এবং অতুলপ্রসাদ সেনের কবিতা ও গানের যুগলবন্দী। ফরাসি সাহিত্যের মহীরুহ ভিক্টর হুগোর কবিতায় প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়। পরবর্তীতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান এবং রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গানের মাধ্যমে বর্ষার উৎসবমুখর রূপ প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফরাসি কবি পল ভেরল্যেনের দুটি কবিতা একটি বিশেষ কাব্য-সংমিশ্রণ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। সবশেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কাব্য কুহুকের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ফারহানা তৃনা এবং সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন সামিয়া আহসান।