সিলেট বিভাগে হামের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছর এই বিভাগে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।

রোববার (৯ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকার সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু আয়ান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারায়। এছাড়া হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকার ১৮ বছর বয়সী তরুণী ঝর্না রানী দাসের মৃত্যু হয়েছে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকার আট মাস বয়সী শিশু এহসানের মৃত্যু হয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে মোট ৮২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫১ জন আক্রান্ত সুনামগঞ্জে। এছাড়া সিলেটে ২৭১ জন, হবিগঞ্জে ১০৩ জন (যার মধ্যে দুজন রুবেলায় আক্রান্ত) এবং মৌলভীবাজারে ১০২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯১ জন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ২৫ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১২১ জন রোগী শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪১ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৬ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে মারা যাওয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫২ জন সুনামগঞ্জের। এছাড়া সিলেটে ৪৪ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৬ জন।

হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চার জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন সিলেট ও দুজন হবিগঞ্জের বাসিন্দা। বর্তমানে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৬ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত এক নারী ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।

এদিকে, দীর্ঘ ১৪ মাস পর সিলেটে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বর্তমানে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।