বগুড়ায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের একটি উড়ালসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে অন্য একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাবা ও ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপস সরকার, তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তীব্র সরকার এবং দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকার ট্রাকচালক আলমগীর।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোরে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে যায়। ট্রাকটির চালক ও সহকারী তখন চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। সেই সময় তাপস সরকার তার ছেলে তীব্রকে চাকা নিয়ে আসতে বলেন। পরবর্তীতে বাবা ও ছেলে মিলে ট্রাকটির চাকা মেরামতের কাজ শুরু করেন।
ঠিক সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রংপুরগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাপস, তীব্র ও আলমগীর নিহত হন।
তাপস সরকারের শ্যালক নয়ন রায় বলেন, "ট্রাকের চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপস তার ছেলেকে চাকা নিয়ে আসতে বলেছিলেন। ছেলে রাত তিনটার দিকে চাকা নিয়ে আসে। পরে বাবা-ছেলে মিলে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি ট্রাক এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।"
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, "একটি ট্রাকের কেবিন পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।"
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ও মালামাল সরানোর কাজ শুরু করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।