চীনের গুয়াংদং প্রদেশের ছিংইউয়ান শহরের ছিংইউয়ান পিপলস হাসপাতালে ১৯৮৯ সালের অক্টোবর মাসে জন্ম নেওয়া দুই নারীর জীবন বদলে দিয়েছিল হাসপাতালের একটি ছোট ভুল। জন্ম সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫৫ মিনিট, কিন্তু সেই মুহূর্তেই অদলবদল হয়ে যান হুয়াং শিয়াওলিন ও লি হুই নামের দুই শিশু।

তৎকালীন হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, নবজাতকদের ক্ষণিকের জন্য মায়েদের দেখানোর পর নার্সারিতে নিয়ে যাওয়া হতো। দুই শিশুর গায়েই ছিল একই ধরনের পোশাক। সে সময় হাতে আইডি ব্যান্ড পরানোর ব্যবস্থা ছিল না; কেবল কাপড়ের ভেতরের একটি কার্ডে মা-বাবার নাম লেখা থাকত। নার্সারিতে রাখার সময় নার্সদের একটি ভুলের কারণে দুই শিশু অদলবদল হয়ে যান, যদিও ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছিল তা আজও অস্পষ্ট।

এই অদলবদলের ফলে হুয়াং একটি সচ্ছল সরকারি চাকরিজীবী পরিবারে বড় হতে থাকেন। তবে হুয়াংয়ের বাবা লক্ষ্য করেন যে, মেয়ের রক্তের গ্রুপ ভিন্ন এবং চেহারার সঙ্গে তাঁর কোনো মিল নেই। এই সন্দেহ থেকে স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বাস তৈরি হয় এবং এর প্রভাবে হুয়াংয়ের পাঁচ বছর বয়সে তাঁদের বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

বাবার সঙ্গে মানসিক দূরত্ব দূর করার লক্ষ্যে ২০২২ সালে হুয়াং একটি ডিএনএ পরীক্ষা করান। পরীক্ষার ফলাফলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—যাঁদের তিনি এত দিন বাবা-মা মনে করে এসেছেন, তাঁদের কারও সঙ্গেই তাঁর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই।

এরপর জন্মদাতা বাবা-মায়ের সন্ধানে পুলিশের সহায়তা নেন হুয়াং। পুলিশের তৎপরতায় গত বছরের এপ্রিলে তিনি তাঁর আসল বাবা-মায়ের সন্ধান পান। একই সঙ্গে তিনি জানতে পারেন, হাসপাতালে যে শিশুটির সঙ্গে তাঁর অদলবদল হয়েছিল, তাঁর নাম লি।