গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডে আহত জামায়াত কর্মী মো. সালাউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন শিবিরের নেতারা।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সাঘাটা উপজেলা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বোনারপাড়া বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা চত্বরে এসে পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভার প্রধান বক্তা গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসূফ আল জারভী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হলো। এই হত্যাকাণ্ডের বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক এনামুল হক সরকার বলেন, "সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের যুব বিভাগের কর্মী সালাউদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের সহসেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা জানান, আগামী ১০ আগস্ট জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির গাইবান্ধায় আসতে পারেন। তার উপস্থিতিতে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আব্দুল গফুরের সঞ্চালনায় এই পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা শিবিরের সম্পাদক ফাইম মন্ডল, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন এবং উপজেলা শিবির সভাপতি সাজেদুর রহমান প্রমুখ।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলা চত্বরে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সঙ্গীরা শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী এবং জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়।

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত সাইফুল্লাহ বারীকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই হামলায় গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া এবং পরে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ৪৮ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই ঘটনায় গত ২২ জুন সাইফুল্লাহর বাবা সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা যুবদল মোখলেছুর রহমান মুকুলকে বহিষ্কার করেছে।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম এবং একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রয়েছেন। তবে সালাউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।