কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া পুত্রবধূকে পুনরায় ঘরে তোলা নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্বজনদের হামলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাবেয়া খাতুনের (৩৯) মৃত্যু হয়। তিনি কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক মকছেদ আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক বিরোধের কারণে রাবেয়া খাতুনের বড় ছেলে সুমনের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। গত ৪ আগস্ট ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ না করেই ওই পুত্রবধূকে পুনরায় বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন রাবেয়া ও তার পরিবার। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন রাবেয়ার আপন ভাতিজা শরিফ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম ও আসাদুল হোসেনসহ তাদের পক্ষের লোকজন।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাবেয়ার বাড়িতে আক্রমণ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে রাবেয়া মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, রাবেয়ার মাথায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছিল।
নিহতের স্বামী মকছেদ আলী বলেন, "ভাতিজাদের না জানিয়ে ছেলের বউকে বাড়িতে আনার আক্রোশে তারা হঠাৎ হামলা চালায়। আমার স্ত্রী মারা গেছে, আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।"
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপন করে আছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রাকিবুলের স্ত্রী আর্জিনা খাতুন দাবি করেন, "তালাক দেওয়া বউ ঘরে তোলা নিয়ে শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে পাল্টাপাল্টি মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তাদের স্বজনরাও আহত হয়েছেন। হত্যার উদ্দেশ্যে কোনো হামলা করা হয়নি।"
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সংঘর্ষের ঘটনায় আগেই থানায় একটি মামলা হয়েছে। হামলায় আহত নারী আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"