সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনোয়ারুল বকসির (৩০) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগাছা থানা ঘেরাও করেছেন তার স্বজনরা। এসময় তারা থানার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা পীরগাছা থানায় পৌঁছান। সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। পরবর্তীতে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত মনোয়ারুল ইসলাম গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম মিন্টুর মেয়ে মিমি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হলে পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওই জিডির ভিত্তিতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি পুলিশ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমি আক্তারের অবস্থান শনাক্ত করে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সাভারের প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের স্টাফ কোয়ার্টারে একটি অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযান চলাকালে ভবনের ছাদ থেকে ভারী কিছু নিচে পড়ার শব্দ শুনে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজন এগিয়ে গেলে মনোয়ারুল বকসিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, নিহত মনোয়ারুলের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে মিমি আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিয়ে করেন। স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির পরিবারের সদস্যরা পুলিশের পোশাক পরে অংশ নিয়েছিলেন এবং তারাই পরিকল্পিতভাবে মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের দায় পুলিশ এড়াতে পারে না উল্লেখ করে তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা আইনগতভাবে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছি।”
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, “এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে। পুলিশের কোনো সদস্যের সংশ্লিষ্টতা থাকলে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”