শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্মকাণ্ড, বক্তব্য, রাষ্ট্রচিন্তা ও জাতি গঠনের বিভিন্ন উদ্যোগকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সহজভাবে তুলে ধরতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ওয়েবসাইট শহীদ জিয়া ডট ওআরজি (ShahidZia.org) চালু করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি গড়ে তোলার কাজ চলমান। প্রচলিত জীবনীভিত্তিক সাইটের বদলে প্ল্যাটফর্মটিকে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

জিয়াউর রহমানকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ তথ্য বর্তমানে বই, পুরোনো সংবাদপত্র, সরকারি নথি, ছবি, ভিডিও, বক্তব্য, স্মৃতিচারণা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছড়িয়ে আছে। এসব উপাদান পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ, ডিজিটাইজ করা, শ্রেণিবিন্যাস করে উৎসসহ সংরক্ষণ এবং একই জায়গা থেকে সহজে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করাই শহীদ জিয়া ডট ওআরজির অন্যতম লক্ষ্য।

প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম আকর্ষণ হবে এর এআই–সহায়ক অনুসন্ধান ব্যবস্থা ‘আস্ক জিয়া আর্কাইভ’। ভবিষ্যতে একজন ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় কোনো বিষয় জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য, ভিডিও, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, নথি বা গবেষণামূলক উপাদান থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। হাজার হাজার পৃষ্ঠার আর্কাইভ ঘেঁটে তথ্য বের করার বদলে কয়েকটি ক্লিকেই একটি বিষয় থেকে সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় এবং সেখান থেকে মূল দলিল বা ভিডিও পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে।

দীর্ঘ লেখা পড়ার চাপ কমিয়ে ইতিহাস জানার অভিজ্ঞতাকে ইন্টারঅ্যাকটিভ করার চেষ্টাও থাকছে বলে জানানো হয়েছে। ভিডিও দেখা, বক্তব্য পড়া, জীবনের সময়রেখা অনুসরণ করা, ছোট কুইজে অংশ নেওয়া এবং বিভিন্ন বিষয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নলেজ পয়েন্টস অর্জন করতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন লার্নিং মাইলস্টোন ও রিকগনিশন ব্যাজ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোগটিকে প্রতিযোগিতামূলক গেম তৈরির লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং ইতিহাস জানার প্রক্রিয়াটিকে তরুণদের জন্য সহজ, অনুসন্ধানভিত্তিক ও আকর্ষণীয় করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য।

শহীদ জিয়া ডট ওআরজির আরেকটি দিক হচ্ছে ক্রাউডসোর্সড আর্কাইভ ধারণা। দেশ-বিদেশের মানুষের ব্যক্তিগত সংগ্রহে জিয়াউর রহমানের অনেক পুরোনো ছবি, সংবাদপত্রের কাটিং, চিঠি, ভিডিও, অডিও বা ব্যক্তিগত স্মৃতি থাকতে পারে—যেগুলোর অনেক কিছুই হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এসব উপাদান জমা দিতে পারবেন। তবে জমা দিলেই কোনো উপাদান সরাসরি প্রকাশিত হবে না। উৎস, প্রাসঙ্গিকতা এবং যথাসম্ভব সত্যতা যাচাই ও মডারেশনের পর তা প্রকাশ ও আর্কাইভে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, প্রত্যক্ষদর্শী এবং জিয়াউর রহমানকে কাছ থেকে দেখেছেন—এমন ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণা, সাক্ষাৎকার ও বিশ্লেষণও পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটি ভবিষ্যতে কেবল সাধারণ পাঠকের জন্য নয়; গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও লেখকদের জন্যও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বা নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য, সংবাদ প্রতিবেদন, ছবি, ভিডিও, বই এবং প্রাথমিক উৎসগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে গবেষক একই বিষয়কে বিভিন্ন উৎস থেকে অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন করতে পারবেন।

উদ্যোগটি টেকসই করার জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্বচ্ছ ক্রাউড ফান্ডিং ও পৃষ্ঠপোষক ব্যবস্থার কথা রয়েছে। ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ, পুরোনো উপকরণ ডিজিটাইজেশন এবং গবেষণা কার্যক্রমে আগ্রহীরা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারবেন। মানসম্মত ও গুরুত্বপূর্ণ আর্কাইভাল উপাদান সংগ্রহ ও সংরক্ষণে অবদান রাখা প্রদায়কদের জন্য যাচাই ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে সম্মানীর ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শহীদ জিয়া ডট ওআরজি বর্তমানে একটি বিকাশমান প্ল্যাটফর্ম। এর সব তথ্য, আর্কাইভ ও এআই–সুবিধা এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়। পর্যায়ক্রমে মূল দলিল, পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, অডিও-ভিডিও, সংবাদপত্রের আর্কাইভ, গবেষণা, ইন্টারঅ্যাকটিভ সময়রেখা এবং যাচাই করা ঐতিহাসিক মেটাডেটা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোগটির জন্য শহীদ জিয়া ডিজিটাল লিগ্যাসি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী লক্ষ্য কোনো স্থির স্মারক ওয়েবসাইট তৈরি করা নয়; বরং প্রযুক্তি ইতিহাসকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে, গবেষণা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহাসিক উপাদান সংরক্ষণে সহায়তা করবে—এমন একটি লিভিং ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলার উদ্যোগ।