সিলেটের ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৯ জনের মধ্যে একজন হলেন সপ্তম রায় প্রীতম (২২)। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রীতম ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র ভরসা ও অবলম্বন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জনের মৃত্যু ঘটে।

এদের মধ্যে সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, বাকি দুজনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রীতম, যিনি ঢাকায় একটি কাজে যাচ্ছিলেন।

প্রীতমের কাঁধে ছিল পুরো পরিবারের ভার। কিছুদিন আগে তার একমাত্র বড় ভাই পানিতে ডুবে মারা যান। সেই শোক সামলে নিয়ে ছোট বয়সেই তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল। অভাব-অনটনের মাঝেও তিনি বৃদ্ধা মা ও বোনের দেখাশোনা করতেন নিজের উপার্জনে।

প্রীতমের খালাতো বোনের স্বামী কাজল ভৌমিক জানান, "প্রীতমই ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত বৃদ্ধা মা ও বোনের সংসার। অনেক কষ্ট আর অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই দিন পার করছিল পরিবারটি। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন প্রীতম। আজ সেই প্রীতমও সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন।"

প্রীতমদের প্রতিবেশী নরেন ভট্টাচার্য বলেন, "মৃতের তালিকায় নামটা দেখে বুকটা ভেঙে গেল। প্রীতমকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছি। আমাদের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া ছিল তারা। আজ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্ঘটনায় সে আর নেই। এর আগে তার এক ভাই পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল। এই ধাক্কা ওর মা-বোন কীভাবে সামলাবে? খবরটা শোনার পর থেকেই মনটা মেনে নিতে পারছে না।"