বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশের শিক্ষার্থীদের এই খাতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে ভিএলএসআই-নির্ভর হ্যাকাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সেমিকন্ডাক্টর নকশাকারক প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমি। ‘ভিএলএসআইথন ৩.০’ শীর্ষক এই চিপ ডিজাইন প্রতিযোগিতায় দেশের ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১০ জন প্রতিযোগী ১০৬টি দলে বিভক্ত হয়ে অংশ নিচ্ছেন।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন এআইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উল্কাসেমির চেয়ারম্যান ডা. আরিফা চৌধুরী রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান, এআইইউবির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো.আবদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক শাহরিয়ার মাসুদ এবং পিসি হেল্পলাইন বিডির প্রতিষ্ঠাতা অনন্য জামানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, “একসময় খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীই ভিএলএসআই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী ছিলেন। আজ ভিএলএসআইথনে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত ও আশাবাদী। এটি প্রমাণ করে, আমাদের তরুণদের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। আগামীতে দেশেই এ খাতে দক্ষতা অর্জন ও ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে।”

উল্কাসেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান বলেন, “ভিএলএসআইথনের তৃতীয় আসরে ১০৬টি দলের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে বাংলাদেশের তরুণরা আগামী দিনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। প্রতিটি আসরে আমরা তরুণ প্রকৌশলীদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে অসাধারণ সম্ভাবনা দেখেছি। এবারের রেকর্ড অংশগ্রহণ সেই আগ্রহের ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।”

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবু সায়েম জানান, “আমি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) পড়ছি। আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজের সুযোগ আছে। আমরা দলগতভাবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছি।”

খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থী আওসাফ সিনান বলেন, “প্রতিযোগিতায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনটি দল অংশ নিচ্ছে। আমরা দলগতভাবে হ্যাকাথনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানার ও বোঝার চেষ্টা করছি।”

অন্যদিকে, এআইইউবি-র কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তানজিম বলেন, “আমি কম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়ছি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে আমাদের কাজের অনেক সুযোগ আছে। সেইসব বিষয় জানতেই এখানে এসেছি।”

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন ডোমেইন ‘প্লেস অ্যান্ড রাউট’ (পিএনআর) যুক্ত করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৫ আগস্ট থেকে প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরু হবে। বাছাইপর্ব, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, কেস বিশ্লেষণ ও সমাধান, নিজস্ব আইডিয়া উপস্থাপন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার পর সেরা দলগুলো চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। সেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানার-আপ এবং দ্বিতীয় রানার-আপ দল নির্বাচন করা হবে। বিজয়ীদের জন্য মোট দুই লাখ টাকার পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।