মাদারীপুরে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ২৫টি শয্যার বিপরীতে প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। ডায়রিয়ার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো বিভিন্ন ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর চাপও ক্রমাগত বাড়ছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ঠান্ডাজনিত সমস্যার পাশাপাশি অনেক রোগীর চর্মরোগের লক্ষণও দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা রোগীদের পর্যাপ্ত তরল খাবার ও ডাবের পানি পানের পরামর্শ দিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগ মিলিয়ে গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন। তবে তীব্র জনবল সংকটে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। মোট ১৬৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩৫ জন। দীর্ঘ সময় ধরে ২৯টি পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া মামুন সরদারসহ বেশ কয়েকজন রোগী চাহিদানুযায়ী সঠিক সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হাসপাতালে আসা ভুক্তভোগীরা তাদের কষ্টের কথা জানান। কালকিনি উপজেলার কালিগঞ্জ থেকে আসা শিশু রোগী নাভানা আহমেদের মা রাবেয়া বেগম বলেন, "আমার ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বারবার পাতলা পায়খানা, বমি ও পেটে ব্যথা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন চিকিৎসা চলছে।"

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার জানান, সকালে ভাত খাওয়ার পর থেকেই তার বমি ও ঘন ঘন পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদ্রা এলাকা থেকে আসা শিশু আব্দুল্লাহর মা দোলা বেগম বলেন, "আমার ছেলে অনেক দিন ধরে জ্বর-ঠান্ডায় ভুগছিল। তাই চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।"

অন্যদিকে চরহোগলপাতিয়া থেকে আসা শিশু জুনায়েদের মা মেরিনা বেগম জানান, তার ছেলেও জ্বরে আক্রান্ত ছিল। হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সে এখন কিছুটা সুস্থ।

সার্বিক বিষয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, "আবহাওয়ার পরিবর্তন ও বৃষ্টির কারণে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরাও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সীমিত সাধ্যের মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"