বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। পেশাদার ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রো অভিযোগ করেছে যে, ফিফার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সভাপতির ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের অবস্থান থেকে সরে না আসার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে উয়েফা।

মূলত বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত। ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ফিফা, তবে তা সত্ত্বেও বিতর্ক প্রশমিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ফিফপ্রো জানায়, ঘটনাটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং সভাপতির ক্ষমতার গভীর অপব্যবহারের উদাহরণ। সংগঠনটির অভিযোগ, এমন এক কাঠামো তৈরি হয়েছে যেখানে একজন ব্যক্তি ফুটবলের বড় সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে এগিয়ে নিতে পারেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি রোধ করতে ফিফার প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে তারা।

ফিফপ্রোর দাবি, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচি নির্ধারণ এবং ফিফার প্রতিযোগিতা সম্প্রসারণসহ পেশাদার ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বাধ্যতামূলক আলোচনার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি তুলেছে সংগঠনটি।

এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তাদের পূর্বের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ফিফার পরিকল্পনা প্রত্যাহার হলেও উয়েফার মতে, তাদের সব শর্ত এখনো পূরণ করা হয়নি।

উয়েফা বলেছে, শুধু বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহার করাই যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে একই ধরনের উদ্যোগ আর নেওয়া হবে না, এমন নিশ্চয়তাও তারা চায়। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর যে আস্থা হারিয়েছে, সেই অবস্থানও অপরিবর্তিত থাকার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

তীব্র চাপের মুখে থাকলেও ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থন রয়েছে কিছু মহলে। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন তার নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ তার পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এবং উয়েফা ও ফিফপ্রোর কঠোর অবস্থান ইনফান্তিনোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।