ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মার্টিনিক দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট পিলি আগ্নেয়গিরিটি প্রায় শতবর্ষ পর আবারও সক্রিয় হওয়ার সংকেত দিচ্ছে। সম্প্রতি ওই আগ্নেয়গিরিটিতে ঘন ঘন ভূকম্পন এবং ভূমির পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা বিজ্ঞানীদের মনে ধ্বংসাত্মক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইতিহাস বলছে, ১৯০২ সালে মাউন্ট পিলির এক ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সেন্ট-পিয়েরে শহরটি ছাই হয়ে গিয়েছিল এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এরপর ১৯২৯ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে এই আগ্নেয়গিরির শেষ অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, মাউন্ট পিলি পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত শুরু করলে প্রচণ্ড গরম গ্যাস, ছাই ও পাথরের মেঘ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে বিশাল ছাইয়ের স্তূপের কারণে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্টিনিক ভলক্যানোলজিক্যাল অ্যান্ড সিসমোলজিক্যাল অবজারভেটরির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই আগ্নেয়গিরিতে ১২৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। জুলাই মাসজুড়ে এখানে মোট ৩৩১টি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। পাহাড়ের গভীরে উচ্চ চাপের তরল বা ম্যাগমা জমা হয়ে পাথর ভেঙে যাওয়ার ফলেই এই ধরনের ভূমিকম্প তৈরি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই।
ভূকম্পনের পাশাপাশি মাউন্ট পিলির চূড়ার চারপাশের মাটি ক্রমশ ফুলে উঠছে। জানা গেছে, মে মাস থেকে পর্বত চূড়ার আশপাশের এলাকা প্রতি মাসে প্রায় আধা ইঞ্চি হারে প্রসারিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চূড়ার প্রায় আধা মাইল গভীরে উচ্চ চাপের কারণেই মাটি এভাবে উপচে উঠছে। অধিকাংশ ভূমিকম্পই ভূপৃষ্ঠের মাত্র আধা মাইল থেকে এক মাইল গভীরে ঘটেছে। কম্পনগুলোর মাত্রা মাত্র ১ হওয়ায় সাধারণ মানুষ তা টের পায়নি।
তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল