ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অস্ত্রঘাটতির মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বিকল্পগুলো সংকুচিত হতে পারে। গত সপ্তাহে মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন ট্রাম্প।
গত শুক্রবার ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকের ফাঁকে দুইজনের মধ্যে অস্ত্রের মজুত নিয়ে কথোপকথন হয়। ওই আলোচনায় ফুরিয়ে আসতে থাকা অস্ত্রের মজুত এবং হেগসেথের কাছে কেন ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল বা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল—সে ব্যাখ্যা জানতে চান ট্রাম্প। বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত দুজন ব্যক্তি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন এই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট–এর সূত্রগুলোর মতে, অস্ত্রের এই ঘাটতির জন্য এবং প্রেসিডেন্টকে বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত না রাখার জন্য নিজের ডেপুটি স্টিফেন ফেইনবার্গকে দায়ী করেছেন হেগসেথ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর পর পেন্টাগনে ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী অস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। গত মাসে ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম এবং ৪৫২টি টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সিস্টেম ছিল। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে—গত ২৭ জুলাই পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী মাত্র ৭৫৯ থেকে ৮২৭টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা এবং ২৩৪ থেকে ২৭৮টি থাড সিস্টেম অবশিষ্ট রয়েছে।
গত মাসে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির এক শুনানিতে হেগসেথ জানান, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে আনুমানিক ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৭৫০ কোটি) ডলার ব্যয় হয়েছে। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপযুক্ত অর্থায়ন না করার জন্য বাইডেন প্রশাসনকে দায়ী করেন এবং অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনসহ অন্যান্য কাজের জন্য কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন (৬ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার বরাদ্দ চান।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট হেগসেথের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। লেভিট বলেন, ‘এমন ঘটনা একেবারেই ঘটেনি। আর হেগসেথের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
এদিকে ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের কোনো ঘাটতি নেই। সব ধরনের অস্ত্র যথেষ্ট রয়েছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলও প্রতিবেদনটি অস্বীকার করে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের অস্ত্রের মজুতের পরিস্থিতি নিয়ে সেক্রেটারি হেগসেথ কাউকে বিভ্রান্ত করেননি অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের দাবিগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক।’
একাধিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হেগসেথকে জবাবদিহির মুখে ফেলেছেন। তবে শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকাশ্যে হেগসেথের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ হাতে নেওয়ার এবং ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র না পায় তা বন্ধের সাহস ট্রাম্পের রয়েছে। ’