জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারী রাজু আহম্মেদকে ঘিরে ধরেছিলেন—জবানবন্দিতে এমনটাই বলেছেন সাক্ষী মো. রকিবুল ইসলাম। তিনি আদালতকে জানান, রাজুর কাছ থেকে একজন আনসার সদস্য অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার পর গুলি করে তাকে মাটিতে ফেলে দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেন রকিবুল ইসলাম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন। সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার আসামি ২৮ জন।

জবানবন্দিতে রকিবুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকালে তিনি ও তাঁর চাচাতো ভাই রাজু আহম্মেদ রাজধানীর মোহাম্মপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে আরও ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে পুলিশ তাঁদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর একজন আনসার সদস্য রাজুকে তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেন বলে জানান রকিবুল। তারপর রাজুর বাঁ পায়ে একটি গুলি করেন আনসার সদস্য ওমর ফারুক। এরপর অন্য একজন পুলিশ সদস্য এসে রাজুর পিঠের বাঁ দিকে গুলি করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সাক্ষী। রাজু তখন পড়ে যান।

রকিবুল ইসলাম বলেন, পরে ছাত্র-জনতা ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান। এরপর তিনি রাজুকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দিকে রওনা হন। হাসপাতালে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রকিবুল ইসলাম বলেন, রাজুকে গুলি করার সিসিটিভি ফুটেজ পরে সংগ্রহ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যাঁরা গুলি করেছেন এবং যাঁরা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের বিচার চান তিনি।

‘সাক্ষী যদি অপদার্থ হয়’

জবানবন্দির পর রকিবুল ইসলামকে জেরা করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসানের জেরায় তিনি বলেন, সেই আন্দোলনে তিনি (রকিবুল) বহিরাগত ছিলেন।

জেরা শেষে প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহর উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘সাক্ষী যতই প্রত্যক্ষদর্শী হোক না কেন, সে যদি অপদার্থ হয়, তাহলে মামলা ধ্বংস করে ফেলবে।’

এরপর এই মামলার ৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আজ জবানবন্দি দেন মো. মতিয়ার রহমান। তিনি শহীদ রাজুর ফুফাতো ভাই।

জবানবন্দিতে মতিয়ার রহমান বলেন, রাজু তাঁর মামাতো ভাই। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বেলা ৩টার দিকে ইব্রাহিম নামের একজন তাঁকে ফোন করে রাজুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানান। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে তিনি রাজুর মৃতদেহ দেখতে পান। মতিয়ার রহমান বলেন, রাজুর বাঁ পায়ে একটি গুলি এবং পেটের বাঁ পাশে আরেকটি গুলির ক্ষত দেখতে পান তিনি।

এই মামলায় চার আসামি গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক, শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক।