শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জানানো হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শব্দদূষণ মানবস্বাস্থ্য, জনজীবন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ঝুঁকি কমাতে এলাকাভেদে শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং মিশ্র এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা অনুমোদিত।
বিধিমালার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ নিম্নরূপ:
কোনো উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র বা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করা যাবে না। এছাড়া কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। অনুমতি পাওয়া গেলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং ব্যবহারের সময় ৫ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী যেকোনো ধরনের হর্নের উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, বিক্রি, বিতরণ, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি পটকা, আতশবাজি বা শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না।
প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্য প্রাণীর আবাসস্থলে বেলুন ফোটানো এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত শব্দসৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা যাবে না।
শব্দদূষণ রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাফিক পুলিশকে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তারা ঘটনাস্থলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে বিধিমালার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।