দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (আইজেএসও)–২০২৬-এর জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচনের লক্ষ্যে ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (বিডিজেএসও ২০২৬)-এর অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এই নিবন্ধনে অংশ নিতে পারবেন।

দেশের যেকোনো প্রান্তের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম এবং ইংরেজি ভার্সন—সব মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্যই এই নিবন্ধন উন্মুক্ত। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো যেকোনো ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। এছাড়া, যারা পূর্ববর্তী বছরগুলোতে অনলাইনে নিবন্ধন করে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা তাদের পুরোনো অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করে পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের শেষ তারিখ এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্বের সময় ও স্থান চূড়ান্ত হলে তা ওয়েবসাইটের ঘোষণা অংশে জানানো হবে এবং নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হবে।

নিবন্ধনের শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী যাদের জন্মনিবন্ধন ১ জানুয়ারি ২০১১-এর পরে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। ২০২৬ সালে শিক্ষার্থী যে শ্রেণিতে অধ্যয়ন করবেন, সেই অনুযায়ী তার শ্রেণি নির্ধারিত হবে। অলিম্পিয়াডটি সাধারণত দুটি ধাপে পরিচালিত হয়—সারা দেশে আঞ্চলিক বা অনলাইন পর্ব এবং ঢাকায় জাতীয় পর্ব। প্রতিটি শ্রেণিতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের ওপর বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় প্রশ্ন করা হবে। আঞ্চলিক পর্বে সাধারণত এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ১২ থেকে ২০টি সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। অন্যদিকে, জাতীয় পর্বে আইজেএসওর আদলে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের পাশাপাশি উদ্দীপকসহ বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন থাকবে।

আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্ব শেষে বিজয়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিডিজেএসওর জাতীয় ক্যাম্প। সেখান থেকে প্রাথমিক বাছাই এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের পর আন্তর্জাতিক দল নির্বাচনী পরীক্ষার মাধ্যমে সোফিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২৩তম আইজেএসওর জন্য চূড়ান্ত বাংলাদেশ দল গঠন করা হবে। চূড়ান্ত দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, আচরণ, মানসিক সক্ষমতা ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করা হবে।