অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল মুক্তকণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, “মুক্তকণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রণয়নের লক্ষ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন।
প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া মুক্তকণ্ঠের প্রতিবেদনে উল্লিখিত ফ্যাসিবাদ সহযোগিতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নে সম্পৃক্ততার অভিযোগগুলোও এই কমিটি তদন্ত করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অফিস আদেশে জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে তারা উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রশাসনের মতে, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা।”
কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রশাসন আরও জানায়, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী কোনো ব্যক্তি, তার পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে, ছাড় পাবেন না। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে মুক্তকণ্ঠে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশব্যাপী গোপন তৎপরতা ও নৈরাজ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান।