পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন ও দুর্গম এলাকাগুলোও এখন আর প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে মুক্ত নয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার মিটার গভীরে বসবাসকারী শামুক ও ঝিনুকের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা শনাক্ত করেছেন কোরিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির বিজ্ঞানীরা।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নর্থ ফিজি বেসিন এবং ভারত মহাসাগরের সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ান রিজ এলাকা থেকে সংগৃহীত শামুক ও ঝিনুকের দেহ পরীক্ষায় এই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী সে-জু কিম বলেন, "প্লাস্টিক দূষণ এখন সমুদ্রের তলদেশের হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট বাস্তুতন্ত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন বা বিচ্ছিন্ন পরিবেশ হিসেবে বিবেচিত হতো।"

গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত প্রতিটি প্রাণীর দেহে গড়ে ৩.৪২ টুকরা মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান। এর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত পলিস্টাইরিন জাতীয় প্লাস্টিকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ওয়াটার রিসার্চে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, পরীক্ষা করা প্রাণীগুলোর ৯২ শতাংশের শরীরেই ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। মোট ১২টি প্রাণীর মধ্যে ১১টির শরীরেই এই কণা পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, গভীর সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক ছেঁকে তোলা বাস্তবে অসম্ভব, তাই দূষণ রোধ করতে হলে এর উৎস বন্ধ করাই এখন সময়ের দাবি।

গবেষণার তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাণীদের খাবার গ্রহণের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে শরীরে প্লাস্টিক জমার স্থান ভিন্ন হয়। সমুদ্র তলদেশ থেকে খাবার খুঁটে খাওয়া শামুকগুলোর পরিপাকতন্ত্রে প্লাস্টিক জমা হয়েছে, অন্যদিকে পানি ছেঁকে খাবার খাওয়া ঝিনুকের শরীরজুড়ে এই কণাগুলো সমভাবে ছড়িয়ে ছিল। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় ভারত মহাসাগরের প্রাণীদের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব অনেক বেশি পাওয়া গেছে।