নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মহাদেও নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুটি নৌকার মাঝে চাপা পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার সকালে রংছাতি ইউনিয়নের বড়ুয়াকোনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকের নাম রিফাত (২০)। তিনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার গন্দিরগাঁও গ্রামের সেকুল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাশাপাশি থাকা দুটি নৌকার মাঝখানে চাপা পড়ে রিফাত গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৌভিক শ্রাবণ দত্ত জানান, "হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।"

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মহাদেও নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে আশপাশের এলাকায় ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। গত কয়েক বছরে অনেক পরিবার নদের ভাঙনে তাদের জমি হারিয়েছে।

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত দুই শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বালু তোলা হচ্ছে। পরবর্তীতে নদের তীরের বিভিন্ন স্থানে বালু মজুত করে ট্রলি ও ড্রামট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২০টি ছোট-বড় নৌকায় বালু তোলা হয়।

রংছাতি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আলী আজগর জানান, বালু উত্তোলন ঠেকাতে নদের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, মহাদেও নদে বর্তমানে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত আছে। সম্প্রতি অভিযানে কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং একাধিক নৌকা জব্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।