জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। তাঁর বড় ভাই মো. আল আমিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে এই মর্মে সাক্ষ্য দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, সাইফুলের শারীরিক কষ্ট বাড়লেও তৎকালীন কারফিউর কারণে তাঁকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার একদিন পরই সাইফুলের মৃত্যু হয়।
রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার চলছে। এই মামলার সাক্ষী হিসেবে আল আমিন তাঁর জবানবন্দিতে জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর ছোট ভাই সাইফুল বন্ধুদের সঙ্গে রামপুরা কাঁচা বাজার এলাকায় আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানে পুলিশ ও বিজিবি ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালাচ্ছে বলে তিনি বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারেন। এরপর রামপুরার পদচারী সেতুর দিকে যাওয়ার সময় সাইফুলের তলপেটে গুলি লাগে।
ঘটনার পর বন্ধু ও অন্যান্যরা তাঁকে রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান। আল আমিন জানান, "কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সাইফুলের পেট সেলাই করে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।"
এরপর তাঁকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা ড্রেসিং করে ওষুধ লিখে দেন এবং সেদিন তাঁকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। জবানবন্দিতে আল আমিন বলেন, "সেদিন রাতে সাইফুলের তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। কয়েকবার বমিও করেন।"
পরিবার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ালেও সাইফুলের ব্যথা কমেনি। তবে কারফিউ জারি থাকায় তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া যায়নি। ২০ জুলাই সকাল ছয়টার দিকে ব্যথা কিছুটা কমলে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন এবং সকাল ৯টার দিকে ঘুম থেকে উঠে সাইফুলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে আল আমিন জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, সেদিন রামপুরা এলাকায় বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশের রাশেদুল ও মশিউরের নেতৃত্বে গুলি চালানো হয়। যারা এই ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গুলি চালিয়েছেন, তাদের সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
মামলার চার আসামির মধ্যে বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।