আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি টেক্সটাইল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (এইউএসটিটিএএ) ‘ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার—বিয়ন্ড দ্য ক্লাসরুম’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে। আয়োজনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যজ্ঞান ও বাংলাদেশের টেক্সটাইল এবং তৈরি পোশাকশিল্পের বাস্তব কর্মপরিবেশের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ক্যাম্পাসের এম এইচ খান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, পেশাগত মানসিকতা এবং কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাবিষয়ক নানা ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনের আয়োজন করা হয়।
টেক্স হিউ লিমিটেড ছিল টাইটেল স্পনসর। এফসিএল কো–স্পনসর এবং অ্যাপারেল টাইমস বিডি শিল্পজ্ঞানভিত্তিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল। শিল্পভিত্তিক জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে তাদের উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য মো. আশরাফুল হক বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে সফল হতে হলে একজন প্রকৌশলীর শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞানই নয়, পেশাদারত্ব, অভিযোজন ক্ষমতা ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফয়জুর রহমানও শিক্ষার্থীদের শিল্পপ্রস্তুতি বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও টেক্স হিউ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদ আল আজিম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু সফল গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা নয়; এমন পেশাজীবী তৈরি করা, যারা প্রথম দিন থেকেই শিল্পে মূল্য সংযোজন করতে পারবে।’
প্রচলিত সেমিনারের বাইরে গিয়ে কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সামনে শিল্পের বাস্তব চিত্র এবং কর্মজীবনের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন; স্পিনিং, নিটিং, উইভিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও গার্মেন্টস উৎপাদন; মার্চেন্ডাইজিং ও সোর্সিং কার্যক্রম; কমার্শিয়াল ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট; পেশাগত যোগাযোগ ও স্টেকহোল্ডার ব্যবস্থাপনা; ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, চাকরির প্রস্তুতি ও ইন্টারভিউ কৌশল; এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শিল্পের বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য।
প্রশিক্ষক হিসেবে সাকিব সারোয়ার, মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার, জার্মান ব্র্যান্ড লিয়াজোঁ অফিস; এম এম এ ইয়াসিন, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান, ইশহো লিমিটেড; কামরুজ্জামান রিয়েল, প্রজেক্ট লিড, ব্র্যান্ড লিয়াজোঁ অফিস; ইমরান খান, কান্ট্রি ম্যানেজার, ব্র্যান্ড লিয়াজোঁ অফিস; গোলাম সারওয়ার আনিক, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডাইং), অ্যাপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেড উপস্থিত ছিলেন।
বাস্তব কেস স্টাডি, সমস্যা সমাধানভিত্তিক আলোচনা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিল্প–উপযোগী মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।