চীনের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিধ্বংসী গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে পারমাণবিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। তাঁদের মতে, একটি বড় গ্রহাণুর ভেতর পারমাণবিক বিস্ফোরক পুঁতে বিস্ফোরণ ঘটানোই এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর।
গ্রহাণু মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি। অতীতে এ ধরনের মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতে পৃথিবীতে ভয়াবহ পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটেছে, যার ফলে অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১০ থেকে কয়েক শ মিটার ব্যাসের অনেক গ্রহাণু শনাক্ত করেছেন, যেগুলো পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে উড়ে গেছে। ২০৩০ সালে আবারও সেই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শত বছর আগের রহস্যের ইঙ্গিত দেয়।
বিপুলসংখ্যক বড় গ্রহাণু এখনও অনাবিষ্কৃত রয়েছে, ফলে পৃথিবীর সঙ্গে এগুলোর সংঘর্ষের বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাত্র কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ আগে সতর্কবার্তা আসে।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ডার্ট মিশনে পরীক্ষিত পদ্ধতিসহ বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য। তবে কয়েক শ মিটার ব্যাসের বিশাল গ্রহাণুর ক্ষেত্রে এসব পদ্ধতিতে অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
চায়না একাডেমি অব লঞ্চ ভেহিকেল টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা বলছেন, কক্ষপথ থেকে বড় গ্রহাণুকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার জন্য পারমাণবিক বিস্ফোরণই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
‘স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, চরম পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে খুব বড় গ্রহাণু বা খুব অল্প সময়ের সতর্কবার্তা পাওয়া গ্রহাণুর ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিস্ফোরণই হতে পারে একমাত্র বাস্তবসম্মত প্রতিরোধের উপায়।
গবেষকেরা একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে গ্রহাণুর গভীরে একটি গর্ত তৈরি করে সেখানে পারমাণবিক বিস্ফোরক প্রবেশ করিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর নতুন পদ্ধতির রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, হিরোশিমায় নিক্ষেপ করা পারমাণবিক বোমার চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ শক্তিশালী বিস্ফোরণ ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুকে চূর্ণবিচূর্ণ করতে সক্ষম। গ্রহাণু পৃষ্ঠের ৩০ মিটার গভীরে বিস্ফোরণ ঘটালে, তা অগভীর স্থানে বিস্ফোরণের তুলনায় তিন গুণ বেগে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
গবেষকেরা উদাহরণ হিসেবে বলেন, প্রায় ১ কিলোমিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুর ২০ মিটার গভীরে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে সেটির পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাওয়ার বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩০ সেন্টিমিটারের বেশি বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বড় গ্রহাণু মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরিতে এ গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কোনো গ্রহাণু আঘাত হানার আগে খুব কম সময় হাতে থাকলে, সেটিকে ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে পারমাণবিক বিস্ফোরণ।
গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন, পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানকারী বড় গ্রহাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রকৌশলগত নকশা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে পারে এ গবেষণা।
ইরান যুদ্ধে হতাশ, মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকা ৫ হাজার সেনা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে সেই মার্কিন রণতরি
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ৪:১৫ অপরাহ্ণ