২০০০ সালের ৩ আগস্ট ঢাকায় প্রথমবারের মতো সফটওয়্যার মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময়ে অনেকের মনে হতে পারে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) হয়তো এ আয়োজন করেছিল। তবে প্রকৃত আয়োজক ছিল বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। বিসিএসের ‘বিসিএস সফটওয়্যার এক্সপো’ নামের এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০০ সালের ৩ থেকে ৬ আগস্ট ঢাকার শেরাটন হোটেলে (বর্তমানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ঢাকা)।

উক্ত মেলায় মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর আগে বিসিএস ‘কম্পিউটার শো’ নামে হার্ডওয়্যারভিত্তিক কম্পিউটার প্রদর্শনী পরিচালনা করলেও, কেবল সফটওয়্যারকে কেন্দ্র করে মেলা আয়োজন ছিল প্রথম উদ্যোগ। ঐতিহাসিক এই মেলার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

বিসিএসের তৎকালীন সভাপতি আবদুল্লাহ এইচ কাফী মেলার পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ‘আমার নিজের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পেশা শুরু ১৯৮৯ সালে। তখন কম্পিউটার বা প্রযুক্তি বলতে আমরা মূলত হার্ডওয়্যারকেই বুঝতাম। ১৯৯০-এর দশকে আমাদের হার্ডওয়্যারশিল্প বড় হতে থাকলেও সফটওয়্যার বিষয়টি তখনো তেমন আলোচনায় ছিল না। তবে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে সফটওয়্যারভিত্তিক উন্নয়ন অনেক সমাদৃত হচ্ছিল। সেই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে আমরাও দেশীয় সফটওয়্যার খাতকে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিই। বিসিএস দীর্ঘদিন ধরেই মূলত যন্ত্র বা হার্ডওয়্যারনির্ভর কম্পিউটার মেলা করে আসছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কমডেক্সসহ বিদেশের নানা মেলা দেখে আমরা অনুধাবন করি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বড় পরিবর্তন আসছে এবং সফটওয়্যার ও সেবা খাতের দ্রুত বিকাশ ঘটছে।’

১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে সরকার কম্পিউটারের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করায় দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। এই শুল্ক ও করমুক্ত সুবিধার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানি বাড়ানো।

আবদুল্লাহ এইচ কাফী আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, সবাই সফটওয়্যার বিষয়টি সম্পর্কে জানুক। তখন সবেমাত্র বেসিস গড়ে উঠছে এবং বিসিএসের সদস্যরাই ছিলেন বেসিসের সদস্য। বিসিএসের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এস এম কামাল তখন বেসিসের সভাপতি। তাঁকে বললাম, কম্পিউটার দিয়ে কী কী কাজ সম্ভব, তা সাধারণ মানুষ ও সরকারকে জানানো প্রয়োজন। বিসিএস থেকেই এমন একটি মেলা করা যায়।’ এইভাবে বিসিএসের উদ্যোগে প্রথম সফটওয়্যার মেলার সূচনা হয়। প্রথম এ মেলায় দেশের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহ অংশ নিয়েছিল।

বর্তমানে বেসিস নিয়মিতভাবে সফটএক্সপো নামের সফটওয়্যার মেলার আয়োজন করে আসছে। তবে আয়োজনের ২৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ নিয়ে কিছুটা আফসোস প্রকাশ করেন আবদুল্লাহ এইচ কাফী। আত্মসমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের সফটওয়্যার খাতে প্রকৃতপক্ষে যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল, আমরা ততটা অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি।’