মহাকাশের অসীম রহস্য উন্মোচনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন বিজ্ঞানীরা। চিলির ভেরা সি রুবিন অবজারভেটরির ৩.২ গিগাপিক্সেল (৩২০ কোটি পিক্সেল) ক্ষমতাসম্পন্ন বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করে মহাকাশের গভীরে থাকা ৫ লাখেরও বেশি গ্যালাক্সি এবং ৫০ হাজারেরও বেশি নক্ষত্রের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি তোলা হয়েছে। এই ছবিতে স্পাইরাল বা প্যাঁচানো গ্যালাক্সি, ডিম্বাকৃতি গ্যালাক্সি, একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষরত গ্যালাক্সি এবং মহাবিশ্বের শুরুর দিকের সুদূর লালচে গ্যালাক্সিগুলো নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের ৮.৪ মিটার দূরবীক্ষণ যন্ত্রে স্থাপিত এলএসএসটি ক্যামেরা দিয়ে এই দৃশ্যটি একক কোনো স্ন্যাপশটে ধারণ করা হয়নি। বরং শত শত আলাদা ছবির সমন্বয়ে এই সামগ্রিক দৃশ্যটি তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এক্সপোজার দেওয়ার ফলে অত্যন্ত দূরবর্তী এবং ক্ষীণ আলোর মহাজাগতিক বস্তুগুলোও এখানে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মহাকাশের যে নির্দিষ্ট অংশের ছবি তুলেছেন, তা 'কসমস ফিল্ড' নামে পরিচিত। ২০০৩ সালে হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর গত দুই দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এখানে কাজ করছেন। এই অঞ্চলটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথের সমতল এবং ধূলিমেঘ থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, যার ফলে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের দৃশ্যগুলো স্পষ্টভাবে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং জ্বালানি বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগটি রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের ১০ বছর মেয়াদি 'লেগাসি সার্ভে অব স্পেস অ্যান্ড টাইম' প্রকল্পের একটি অংশ। রুবিন পর্যবেক্ষণাগারের পরিচালক বব ব্লাম জানিয়েছেন, এই কসমস ফিল্ডের ছবি তোলার কার্যক্রম কেবল শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই একই অঞ্চলে বারবার নজর রাখার মাধ্যমে মহাকাশে নক্ষত্রের বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।