গ্রিসের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শক্তিশালী বাতাসের মধ্যে ভয়াবহ দাবানল চলছে। রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমে অগ্নিনির্বাপণের কাজে নিয়োজিত দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর চার আরোহীকে উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস জানায়, এথেন্সের পশ্চিমে উপকূলীয় এলাকা সাথা ও আটিকা অঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের ভাড়া করা দুটি বেল হেলিকপ্টারে মোট চারজন ক্রু ছিলেন, যারা এলেফসিনা সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিলেন।
হেলিকপ্টার দুটি কেন সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। আরোহীদের পরিচয় বা তাদের বর্তমান অবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, চলমান দাবানলের কারণে পর্যটন দ্বীপ ক্রিট থেকে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার শুরু হওয়া আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বহু বাড়িঘর ও কৃষিজমি পুড়িয়ে দেয়। প্রবল বাতাসের কারণে প্রায় ৮ হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে রাতারাতি সরিয়ে নেওয়া হলেও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে পরে তাদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে ক্রিটে আগুন নেভানোর সময় আটকা পড়ে দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস রোববার সতর্ক করে বলেন, দেশটি ‘চরম আবহাওয়ার’ মুখোমুখি এবং সামনে আরও ‘অত্যন্ত কঠিন’ কয়েকটি দিন অপেক্ষা করছে। তিনি জানান, ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে, ফলে অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহৃত উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার নিরাপদে পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
এদিকে, তাপপ্রবাহের কারণে গ্রিস ছাড়াও স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, শুধু স্পেনেই চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দুই লাখ হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা বছরের এই সময়ের গড়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘ তাপপ্রবাহ, খরা ও শুকনো উদ্ভিদ দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। তবে অবহেলা বা অগ্নিসংযোগের মতো মানবসৃষ্ট কারণও এসব অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম উৎস।