ভারতের মধ্যপ্রদেশে বাঘের আক্রমণে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) ভোরে কানহা ন্যাশনাল পার্কের নিকটবর্তী পাররাপুর বায়গাতোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বাঘটি ঘরে ঢুকে ওই নারীর মাথায় কামড় দিয়ে তাকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়।

নিহত নারীর নাম সুগনি বাই ধুরভে, বয়স ৩০ বছর। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে রাত দেড়টার দিকে বাঘটি হানা দেয়। সুগনি বাই ধুরভে যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন বাঘটি তার কুঁড়েঘরে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে বাঘটি তার মাথায় কামড় দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। আশপাশের লোকজনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা টর্চ নিয়ে ছুটে এলে বাঘটি ওই নারীকে ৩০০ মিটার দূরে ফেলে রেখে বনের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে স্থানীয় বাইহারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ব্লক মেডিকেল অফিসার ড. অনন্ত লিলাহারে জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিঝোরা বাফার জোনের সহকারী পরিচালক আশিষ পান্ডে জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশ এই ঘটনাকে অপমৃত্যু হিসেবে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় একাধিকবার বাঘ ও চিতাবাঘের লোকালয়ে ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকায় খাঁচা বসানো ও টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের রাতে ঘরের দরজা বন্ধ রাখা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের একা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, নিহত নারীর পরিবার একটি দরজাবিহীন ভাঙা কুঁড়েঘরে বসবাস করত। প্রান্তিক ও অনগ্রসর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থেকে এই পরিবারটি কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।