আগামী ১২ আগস্ট এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। ওই দিন ঘটবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে একদম সোজাভাবে অবস্থান করবে, তখন কিছুক্ষণের জন্য দিনের আলোয় রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসবে। মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর খবর হলেও বাংলাদেশ থেকে এই দৃশ্য সরাসরি দেখার সুযোগ নেই।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে আকর্ষণীয়ভাবে দেখা যাবে ইউরোপ এবং উত্তর মেরুর (আর্কটিক) নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে। গ্রহণের বলয়টি গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর এবং স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এছাড়া উত্তর গোলার্ধের বেশ কিছু অঞ্চল, ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা থেকেও আংশিক সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হবে।
সময়ের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, গ্রহণটি শুরু হবে ১২ আগস্ট রাত ১০টা ১৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৩ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটে। রাতের সময় হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ও ভারতসহ উপমহাদেশের কোনো স্থান থেকেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে, ফলে সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যায়। এর ফলে দিনের বেলাতেও রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসে এবং আকাশের তারাগুলো দৃশ্যমান হয়। এই সময়ে কয়েক মিনিটের জন্য চারপাশের পরিবেশ গোধূলির মতো হয়ে যায় এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা খালি চোখে দেখা যায়।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পূর্ণগ্রাসের ওই ক্ষণিক সময় ছাড়া সূর্যের দিকে কখনোই খালি চোখে তাকানো নিরাপদ নয়। এজন্য বিশেষ মানের সোলার ভিউয়িং চশমা বা অনুমোদিত ফিল্টার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, সূর্য চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বড় এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বেশি দূরে অবস্থিত। এই দূরত্বের বিশেষ ভারসাম্যের কারণেই পৃথিবী থেকে চাঁদ ও সূর্যকে প্রায় একই আকারের মনে হয়।