সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকদের যোগদান প্রসঙ্গে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন নির্বাচিত প্রার্থীরা।

রোববার (২ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। যোগদানের পর তাদের পদায়ন এবং পরবর্তীতে পেশাগত প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে।

এর আগে গত ১ আগস্ট (শনিবার) মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় শিক্ষক যোগদানের প্রাথমিক তারিখ ২৯ অক্টোবর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সভার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে যোগদান বিলম্বিত হলেও দ্রুত সময়সীমার মধ্যেই শিক্ষক পদায়ন সম্পন্ন করতে চায় সরকার। সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই আজ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১ অক্টোবরকে যোগদানের চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। এরপর তাদের পদায়ন সম্পন্ন হবে এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও নির্বাচিত প্রার্থীরা দীর্ঘ সময় যোগ দিতে পারেননি। এই বিলম্বের প্রতিবাদে এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলন করেন প্রার্থীরা। পরবর্তীতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের যোগদান করানো হবে এবং পদায়নের পর পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।