নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একই সময়ে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৃথক মিছিল বের হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকেল পাঁচটা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আড়াইহাজার বাজার এলাকায় এই পরিস্থিতি বিরাজ করে। তবে একপর্যায়ে দুই দলের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলেও পুলিশের তৎপরতায় বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে আড়াইহাজার বাজার এলাকায় একটি মিছিল বের করে জামায়াত। ঠিক একই সময়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও পৃথক মিছিল নিয়ে ওই এলাকায় উপস্থিত হন। দুটি মিছিল কাছাকাছি চলে আসায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। দ্রুত খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিএনপির মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লুতফর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ। অন্যদিকে জামায়াতের মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা জামায়াতের আমির মুমিনুর হক সরকার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইলিয়াস মোল্লা ও আড়াইহাজার উত্তর শাখার আমির মাওলানা মনিরুল ইসলাম।

ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইলিয়াস মোল্লা জানান, এটি জামায়াতের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল। তাঁর দাবি, "বিএনপি তাঁদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মাঠে নেমেছিল।" তবে তাঁরা কোনো সংঘাতে জড়াননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াতের এই অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ বলেন, তাঁদের কর্মসূচিও আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাঁরা কারও উসকানিতে পা দেননি।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "দুই পক্ষ একই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে এলাকা ছেড়েছে।"