বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য টাকা জোগাড় করতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তিনি পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজশাহী শহর থেকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন (২২) বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার পলিমহেশপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সাব্বির আর ফেরেননি। ওই দিন রাত ৮টার দিকে তার বাবা দুপচাঁচিয়া থানায় অভিযোগ করেন, একটি আইপি নম্বর থেকে ফোন করে ছেলেকে মারধরের শব্দ শোনানো হয়েছে এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান শুরু করে। প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজশাহীতে সাব্বিরের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, কাউকে অপহরণ করা হয়নি; সাব্বির নিজেই আত্মগোপনে থেকে এই পরিকল্পনা সাজান।
জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির স্বীকার করেন, প্রেমিকাকে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার টাকার প্রয়োজনেই তিনি বাবার কাছে নিজের আইপি নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণের অভিনয় করেন।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, সাব্বির নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। পরে তাকে কাউন্সেলিং শেষে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।