দীর্ঘ ছয় বছরের বিরতির পর আবারও চালু হয়েছে ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্ত বাণিজ্য। শনিবার (১ আগস্ট) থেকে পূর্ব সিকিমের নাথুলা পাস, উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস এবং হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা পাস—এই তিনটি ঐতিহাসিক সিল্ক রুট দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়। করোনা মহামারি এবং সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দীর্ঘ এই সময় বাণিজ্য বন্ধ ছিল।
দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতি বছর মে মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ছয় মাস এই সীমান্ত বাণিজ্য চলবে। সপ্তাহে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে আগে থেকে নির্ধারিত ৩৬টি পণ্যের তালিকা অনুসরণ করা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে রপ্তানি করা হবে হস্তশিল্প, তাঁতের পণ্য, কম্বল, কৃষি সরঞ্জাম, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শুকনো সবজি, মসলা, তৈরি পোশাক ও বাসনপত্র। বিপরীতে চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে আমদানি করা হবে তৈরি পোশাক, জুতা, ইয়াকের চামড়াজাত পণ্য, মাখন, ছাগল ও লেপ।
সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য আগে প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ীকে পারমিট দেওয়া হলেও এবার প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র ৫৮টি পারমিট প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন ও স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের ছাড়পত্র পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে পারমিটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এবং হিমালয়ের তীব্র শীতের কারণে নাথুলাসংলগ্ন চেকপোস্টগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বাণিজ্য পুনরায় শুরুর আগে দুই দেশের ধারাবাহিক যৌথ বৈঠকে সেগুলো সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে উভয় পক্ষ চেকপোস্ট মেরামতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করেছে।
সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। এছাড়া বাণিজ্য কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এবার প্রথমবারের মতো একদল নারী সদস্যকে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়া ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর এই সীমান্তপথ ৪৪ বছর বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে নাথুলা পাস দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় চালু হয়। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নাথুলা হয়ে সীমান্ত বাণিজ্য এবং কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা স্থগিত করা হয়েছিল।