দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে সামরিক ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর কুয়েতের যে দীর্ঘদিনের ভরসা ছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কুয়েতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা বলয়ের পরিধি পুনর্মূল্যায়ন করছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছে কুয়েত সরকার।

সম্প্রতি কুয়েতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, লোনা পানি শোধন প্ল্যান্ট, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং হরমুজ প্রণালি হয়ে পরিচালিত তেল রপ্তানি রুট। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলার একটি বড় অংশ প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও মার্কিন ঘাঁটিগুলো রক্ষা পায়নি। চলতি বছরের মার্চ মাসে এক হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন।

জরুরি তহবিল এবং দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে কুয়েত তাদের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ সচল রাখতে পারলেও, এই হামলাগুলো দেশটির অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের প্রধান এবং কুয়েতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডগলাস সিলিমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, "এই অব্যাহত হামলার কারণে কুয়েতের সাধারণ মানুষের কাছে মার্কিন সেনাদের অবস্থান কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একে তারা এখনও অপরিহার্য ভাবছে। বর্তমানে তারা নিজেদের নিরাপত্তার বিকল্প পথ বের করার চেষ্টা করছে।"

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কুয়েত সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক করতে তারা আমেরিকার কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের দাবি জানাতে পারে।

নিরাপত্তা সংকট প্রসঙ্গে কুয়েতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানান, "সাম্প্রতিক হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। বর্তমান সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ভিন্নধর্মী সামরিক হুমকির মাত্রা ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে।"

তবে সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের মতোই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে তিনি নিশ্চিত করেন।