ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের এখনই শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এতদিন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমন ধারণা করা হলেও, এবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তেহরান নতুন করে আলোচনার টেবিলে না আসা পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওদের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার কঠিন আঘাত হেনে যাব। এক পর্যায়ে তারা বাধ্য হয়ে বলবে, ‘আমরা আর এই চাপ সহ্য করতে পারছি না’।”
সংঘাত শুরুর পাঁচ মাস পর এবং গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের এই নতুন রাজনৈতিক মন্তব্য সামনে এলো।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বারবার ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা বাড়ানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার জোরালো সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করেনি। তবে চলতি সপ্তাহে সংঘাতটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিস্তৃত হওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ‘ব্যাপক ও সমন্বিত বিমান হামলা’ চালিয়েছে। তবে শুক্রবার দিন পর্যন্ত নতুন কোনো সরাসরি আকাশ হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জাতীয় জনমত জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৮ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক ইরান সংঘাত পরিচালনায় ট্রাম্পের এই চরমপন্থি পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। এছাড়া সংঘাতের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের (গ্যাসোলিন) দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।