মহাবিশ্বের রহস্যময় লাল গ্রহ মঙ্গল সব সময়ই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। এই গ্রহের বিস্তীর্ণ ধূলিময় প্রান্তরে কোনো অজানা বস্তুর অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে গবেষণা চলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কিউরিওসিটি রোভারের ক্যামেরায় ধরা পড়া এক অদ্ভুত আকৃতির পাথরের ছবি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
ইউএফও গবেষক স্কট সি ওয়ারিং এই ছবির বিষয়ে দাবি করেছেন, ছবিতে দৃশ্যমান অচেনা বস্তুটি আসলে একটি "অবিস্ফোরিত এক ভিনগ্রহী মিসাইল"। তার মতে, এটি প্রাচীন কোনো যুদ্ধের প্রমাণ, যার ফলে মঙ্গলের এক সমৃদ্ধ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সি ওয়ারিং আরও দাবি করেন, "সামরিক গুরুত্বের কারণে মহাকাশ সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়ে চুপ রয়েছে।" তার বিশ্বাস, এই বস্তুটি উদ্ধার করা সম্ভব হলে এর উন্নত প্রযুক্তি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় সব দেশ এগিয়ে আসবে।
বস্তুটির দৈর্ঘ্য আট ফুটের বেশি হওয়ায় অনেকে একে মহাকাশযান হিসেবেও মনে করছেন। ফেসবুকের এক ব্যবহারকারীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বস্তুটি লম্বা ও সরু এবং এর ভেতরে দুটি কামরার মতো অংশ দেখা যাচ্ছে, যার পাখাগুলো সম্ভবত দুর্ঘটনার কারণে ভেঙে পড়েছে।
তবে এসব দাবির বিপরীতে নাসার অবস্থান স্পষ্ট। সংস্থাটির মতে, ছবিতে দেখা যাওয়া বস্তুটি সাধারণ প্রাকৃতিক শিলা ছাড়া আর কিছুই নয়। কোটি কোটি বছর ধরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, উল্কাপাত এবং তীব্র বাতাসের প্রভাবেই পাথরের এমন অদ্ভুত আকৃতি তৈরি হয়। পরিচিত কোনো বস্তুর আদলে অচেনা কিছু দেখার এই মানসিক প্রবণতাকে বিজ্ঞানীরা 'প্যারেডোলিয়া' বলে অভিহিত করেন।
এর আগে গেইল ক্রেটার এলাকায় একটি দরজার মতো আকৃতি থাকার দাবি করেছিলেন স্কট ওয়ারিং। তবে নাসা সেটিকে শিলাখণ্ডের প্রাকৃতিক ফাটল বলে নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে মঙ্গল গ্রহের প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজতে কিউরিওসিটি রোভারের অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।