ভারতের কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অভয়া (ছদ্মনাম) ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি নতুন করে তদন্ত করবে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এ মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ও আরও দুই কর্মকর্তাসহ মোট তিনজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি।

সিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজাকে সরিয়ে কর্মকর্তা সন্দীপনী গর্গকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শিয়ালদহের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার নাম পাঠিয়েছে সিবিআই।

এ ছাড়া নতুন করে গঠিত তদন্ত দলে আরও দুই কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিবিআইয়ের যুগ্ম পরিচালক অনুরাগ কুমার ও মণীশ উপাধ্যায়। নতুন তদন্ত দল মামলার হাজার পাতার নথি আবার পর্যালোচনা করবে।

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে অভয়ার আইনজীবী অমর্ত্য দে গতকাল শিয়ালদহের আদালতে বলেন, এই মামলায় পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়ে বারবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা আমলে নেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অভয়ার মা ও বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেন, ‘এবার আমি আমার মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যার ন্যায়বিচার পাব।’

এর আগে সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত না করার প্রতিবাদ জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন অভয়ার মা। পাশাপাশি গত মে মাসে বিজেপি থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য ও সাবেক বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তথ্য–প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুলে সীমা পাহুজাকে অভিযুক্ত হিসেবে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দিবাগত রাতে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক অভয়াকে (৩১) দায়িত্ব পালনকালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরদিন হাসপাতালের সেমিনার হলে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় একদল চিকিৎসক প্রতিবাদে সোচ্চার হন এবং মরদেহের ময়নাতদন্তের দাবি তোলেন। তবে সব দাবি উপেক্ষা করে ১০ আগস্ট ওই নারী চিকিৎসকের দেহ সৎকার করা হয় উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটি শ্মশানঘাটে। এই সৎকারের পেছনে পানিহাটির তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ অন্যরা ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের পরদিনই পুলিশ হাসপাতালের কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন শিয়ালদহ আদালত।

তবে আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ ও বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথ। অভয়ার মা বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসনে বিজেপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই মামলার আবার তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন তিনি।