বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের এক সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে বর্ধমান জেলার রেনেসাঁ হাউসিং এলাকায় এক যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হামিদ মণ্ডল। তিনি জইশ-ই-মোহাম্মদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ‘হামিল সাজ্জাদ ভাট গ্রুপ’-এর সদস্য। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বর্ধমান জেলা পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির ঘরে আরও একজন উপস্থিত থাকলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামিদের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাফেরা, সফরসূচি এবং ভিআইপি মুভমেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নথির মধ্যে সাম্প্রতিক সফরের তথ্য, ব্যবহৃত গাড়ি, যাত্রার সময়, চালকের পরিচয় এবং পার্কিং সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, হামিদ পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করতেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর চলাচলের লাইভ লোকেশন কাশ্মীরে অবস্থানরত সহযোগীদের কাছে পাঠাতেন বলে জানা গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
পুলিশের মতে, হামিল সাজ্জাদ ভাট গ্রুপ মূলত কন্ট্রাক্ট কিলিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, বর্ধমানে যাওয়ার আগে হামিদ হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানে একটি গেঞ্জি কারখানায় কাজ করতেন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি বর্ধমানে চলে যান।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শুধু তিনি নন, জইশ-ই-মোহাম্মদের নজরদারিতে আরও কয়েকজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রায়ের নামও উল্লেখ করেন তিনি। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। এসটিএফ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।’
উল্লেখ্য, এর আগে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী ও ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।